হলুদ সাংবাদিকতা
hive-190212·@steemitwork·
0.000 HBDহলুদ সাংবাদিকতা
"অতীতে লোকে মিথ্যা বলতো, মিডিয়া সত্য খুঁজে বের করতো আর এখন মিডিয়া মিথ্যা বলে, লোকেরা সত্য খুঁজে বের করে." -সলিমুল্লাহ খান রাস্তায় একটা দূর্ঘটনা ঘটেছে। লোকজনের ভীর লেগে গেছে। প্রাণহীন দেহটির চারপাশে লোকজন জড় হয়ে আছে। লোকজন ঘিরে হইচই শুরু করে দিয়েছে। এলাকার তরুন টগবগে সাংবাদিক শোনা মাত্রই দৌড়ে আসলো ভিরের দিকে। কিন্তু সে কোন মতেই ভির ঠেলে সামনে আসতে পারছে না। হঠাৎ চিৎকার করে কাদঁতে থাকলো সাংবাদিক মশাই। “ভাইয়েরা আমাকে একটু সামনে যেতে দেন, একটি বারের মত দেখতে দেন। আমার বাবার মুখটা একটু দেখতে দেন। উনি আমার বাবা আমাকে যাইতে দেন। ওনার কান্না আর কথা শুনেই চারিদিকে পিনপতন নিরবতা, লোকজন নিশ্চুপ, নির্বাক। সবাই পথ ছেড়ে দিল। কাদঁতে কাঁদতে ভীর ঠেলে ভিতরে প্রবশ করলো সাংবাদিক। দুর্ঘটনার স্থানে একটি কুত্তার লাশ পরে আছে। বাংলাদেশের অলিতে গলিতে এখন সাংবাদিক । বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টালে ভরে গেছে। কিন্তু এই সাংবাদিকদের নিয়ে এখন জনগণের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যদিও সাংবাদ পত্র নাকি সমাজের দর্পন। কিন্তু আসলেই কি সেই অর্থে বাংলাদেশে সংবাদপত্র গুলো কি কাজ করছে? মোটেও না, তারা নিজেকে নিরপেক্ষ দাবী করলেও দল কানা হয়ে নিজের পকেট ভারী করছে এমনটাই মনে করে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ। তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যথেষ্ট অভিযোগ রয়েছে আর এই সবের অভিযোগের সত্যতাও রয়েছে। যখন সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার কথা তখন তারা পরে রয়েছে বাতাবী লেবুর বাম্পার ফলন নিয়ে। দেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার কথা তখন তারা পরে রয়েছে হুজুরের কাবিননামা নিয়ে। যেখানে সাংবাদিকের উচিত দেশে ঘটে যাওয়া অন্যায় অপকর্ম নিয়ে প্রতিবাদী প্রতিবেদন তৈরী করা তখন তারা নিজেই অপরাধ করে বসে আছে। একের পর এক মানুষরে প্রাইভেসী নষ্ট করছে তারা। তারা অন্যের ব্যাক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস করছে। যদিও বা এইসব কল রেকর্ডের সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তারপরেও ধরেই নিলাম এইসব কল রেকর্ড সত্য কিন্তু সত্য হলেও তারা কি পারে এইভাবে অন্যের ব্যাক্তিগত ফোনালাম ফাঁস করে দিতে? বাংলাদেশের আইনে এটি দন্ডনীয় অপরাধ। সাংবাদিকদের কর্মকান্ড দেখলে মনে হয় কোন অদৃশ্য দ্বৈত্য ভর করেছে। সেই অদৃশ্য দ্বৈত্যটি আসলে কে? সম্পাদক, মালিক, সরকার, রাষ্ট্র নাকি সাংবাদিকেরা নিজেরাই? দিন দিন সাংবাদিকদের অবস্থা করুন থেকে করুণতার হচ্ছে। সাংবাদিকেরা এখন স্বআরোপিত সেন্সরশিপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্যতে রুপান্তর করছে। বলা চলে এক কোথায় সরকারী দলের পা চাটতেই তারা এখন ব্যস্ত। বালিতে মুখ গুজে সব কিছু সহ্য করে নেওয়ার অপসংস্কৃতি চালু করে ফেলেছে। একদিন এই অপসংস্কৃতি বুমেরাং হয়ে নিজেদের ঘাড়েই এসে সববে। আগে সাংবাদিক কথাটা শুনলেই একটা সন্মানের জায়গা তৈরী হত জনমনে। কিন্তু আজকাল এই শব্দটা শুনলেই বিরুপ মন্তব্য করে জনগন। ফেসবুকে বিভিন্ন সংবাদ গুলোতেই সাংবাদিদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্যের সংখ্যা নেহাতেই কম চোখে পরে না। এখনই সময় আছে সাংবাদিকেদর প্রকৃত সাংবাদিকতায় ফিরে আসতে হবে। তাদের লোভ ও পা চাটা থেকে বার হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের সহায়ক হিসেবে থাকতে হবে। না হলে নিকট ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা পেশাটিকে শুধুমাত্র একট মহলের গোলাম হিসেবেই চিহ্নিত করবে। ইদানিং একটা প্রবাদ খুব বেশি শোনা যাচ্ছে – “ সাংবাদিকেরা নাকি বির্যের মত, মিলিয়নে নাকি একটা মানুষ হয়”। আমরা চাই মিলিয়নে সবাই মানুষ হোক। সমাজের প্রকৃতি চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রের দর্পন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। .jpeg) <a href="https://www.google.com/search?q=হলুদ+সাংবাদিকতা&client=ms-android-samsung-gj-rev1&prmd=vin&sxsrf=ALeKk02AuX6ipb17mE0U08EvLNd9upJtBg:1617894051499&source=lnms&tbm=isch&sa=X&ved=2ahUKEwiszOSB9e7vAhWDguYKHfBsAAIQ_AUoAnoECAQQAg&biw=360&bih=645&dpr=2#imgrc=3qJI-sqNwsqfHM">Source</a>