জীবন কঠিন সুন্দর

View this thread on: d.buzz | hive.blog | peakd.com | ecency.com
·@toushik·
0.000 HBD
জীবন কঠিন সুন্দর
![IMG_20210717_092620 (1).jpg](https://images.hive.blog/DQmb9Rdzi9AAecoEYCk5NjurE8V5Hqp4CxLVHDn6VHPy3EB/IMG_20210717_092620%20(1).jpg)

জীবন বৈচিত্র্যে ভরা! কখন রঙিন স্বপ্ন সাদাকালো বাস্তবে রুপ নেয় টেরও পাওয়া যায় না। হঠাৎ বাতাস, আকাশে মেঘ, ঝড়-বৃষ্টি, উজ্জলদিন এতোকিছু মুহুর্তেই ঘটে যায়। কঠিন সুন্দর জীবনে ঝড়বৃষ্টির পরে উজ্জল দিনের অপেক্ষায়-ই দিন পারতে করতে হয় রাজ্জাক মাস্টারকে। একসময় অনেক সুন্দর জীবন কাটিয়ে এখন পারকরছে কঠিন সময়। এটাই বাস্তব, যেমন ঝড়ের পরে চকচকে দিন, ঠিক এর উল্টোও। 

প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি পুলিশ স্টেশনের মসজিদে নামাজ পাড়াতো। মুখে দাড়ি, নুরানী চেহারা, মাথায় টুপি, পরনে পান্জাবি তার নিত্যদিনের পোষাক। ভালোই দিন যাচ্ছিলো, হঠাৎ উচ্চাকাঙ্খা জীবনের প্রতি ঝুকে পরতে লাগলো। ইট-বালু ব্যবসা শুরু করলো। আশেপাশে কোন ইঁট-বালুর গুদাম না থাকায় তার ব্যবসা কয়েকদিনেই বড় হলো। কিন্তু একেট পর এক উচ্চাকাঙ্খা তাকে গ্রাস করতে লাগছিলো। তাকে তলিয়ে দেওয়ার জন্য তার উচ্চ বিলাসী জীবনই যথেষ্ট, এটা তার উপলব্ধি করতে সময় লাগছিলো। তখনও উপলব্ধি করছিলো না। ব্যবসাটা আরো বড় করার জন্য উঠে পরে লাগছিলো। ব্যবসা, স্কুল, ইমাম-তি তিনটাই একসাথে চালিয়ে যাচ্ছিলো। তখনো রাজ্জাক মাস্টার ভালোই ছিলো। পরিবারে কোন মেয়ে সন্তান নেই, দুইটা ছেলে৷ একটা ছেলে কুরআনের হাফেজ অন্যজন স্কুলে পড়াশোনা করছিলো। 

সুন্দর দিন কাটছিলো, কিন্তু প্রতিদিনই তার মাথায় উচ্চাকাঙ্খা চিন্তাভাবনা বাড়তে থাকে৷ তিনি একজন মসজিদের ইমাম, একজন কুরআনের হাফেজ সন্তানের পিতা, সেটা সে ভুলে যায়। তিনি আরো লাভজনক ব্যবসা খুজতে থাকে। যে ব্যবসায় কোন লস নেই লাভ ছাড়া। পেয়েও যায়! ব্যবসা থেকে সব মূলধন বের করে সমস্ত টাকা সুদে অন্যদের ধার দেয়( আঞ্চলিক সুদে লাগায়)। তিনি দেখে খুব সহজেই অনেক বেশি টাকা উপার্জন করা যায়, ঘরে বসে থাকলেই মানুষ টাকা দিয়ে যায়, এর চেয়ে সহজ, লাভজনক ব্যবসা আর কি আছে। চালিয়ে যায়! লোকচক্ষুর অন্তরালে কিছুদিন চললেও পরে সবাই জানতে পারে যে রাজ্জাক মাস্টার সুদ খায়। এতে সে কর্নপাত করে না। ছেলের কথায়ও কোন সাড়াশব্দ করে না। দিনচলতে থাকে, তার স্বপ্ন, অ্যাম্বিশনে পৌঁছায়। 

এখন তার স্বপ্ন হলে শহরের মধ্যে বড় বিল্ডিং করবে এবং সেটা ভাড়ায় খাটাবে। সুদে লাগানে সমস্ত টাকা তুলে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করে। শহরের অন্যতম বড় বিল্ডিং দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। আশেপাশের মানুষ এতে দ্বিমত পোষণ করলেও তার যায় আসলো না। নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজনদের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করে দিলো। দেখতে সহজ মনে হলেও বিশাল অংকের টাকার প্রয়োজন ছিলো শহরের বড় বিল্ডিং তৈরীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে। বাড়ির ৭০% ভাগ কাজ সম্পন্ন করেই অস্থির হয়ে উঠলো রাজ্জাক সাহেব। আগাচ্ছিলো না আর। শেষ মেষ নিজেই এখন অন্য এক সুদের ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুদ নিলো। কিন্তু সে ভেবে দেখেনি তার ইমামতির টাকা আর শিক্ষকতার টাকায় সেই সুদের টাকা পরিশোধ হবে না। 

এখন প্রতিমাসে সে একজনের কাজ থেকে সুদে টাকা তুলে অন্যজনের সুদ পরিশোধ করে। কোন মতে বাড়িটা কমপ্লিট করে কয়েকটা ফ্লাট ভাড়া দিয়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে তার দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে।
👍 , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,